স্বাস্থ্য ব্লগ ও রোগী শিক্ষা

কান, নাক ও গলার সাধারণ সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩: আপনার যা জানা প্রয়োজন (বাংলাদেশ কোড ভলিউম-৪২)
বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এই অধিকারকে আরও সুসংহত করতে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে প্রণীত হয়েছে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’। বাংলাদেশ কোডের ৪২তম ভলিউমে অন্তর্ভুক্ত এই আইনটি আমাদের সমাজের একটি বিশাল অংশের রক্ষাকবচ।
আজকের ব্লগে আমরা এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আইনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা নিশ্চিত করা, তাদের প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সকল কর্মকাণ্ডে তাদের সম-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
১. শিরোনাম, প্রবর্তন ও সংজ্ঞা (ধারা ১ ও ২)
আইনের ধারা ১ অনুযায়ী এটি ২০১৩ সাল থেকে কার্যকর। ধারা ২-এ প্রতিবন্ধিতার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা কেবল শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয় বরং সামাজিক বাধার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়।
প্রতিবন্ধিতার ধরন (ধারা ৩ – ১৫)
এই আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রতিবন্ধিতার সুনির্দিষ্ট শ্রেণিবিন্যাস। ধারা ৩ থেকে ১৫ পর্যন্ত মোট ১২টি বিশেষ ধরনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে:

ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ।

প্রশাসনিক কাঠামো ও বাস্তবায়ন কমিটি (ধারা ১৭ – ২১)

আইনটি সঠিকভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সরকার কয়েকটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছে:
কমিটি সংশ্লিষ্ট ধারা প্রধান ভূমিকা
জাতীয় সমন্বয় কমিটি ১৭ ও ১৮ জাতীয় পর্যায়ে নীতি নির্ধারণ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের তদারকি।
জাতীয় নির্বাহী কমিটি ১৯ ও ২০ আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
জেলা কমিটি ২১ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধান।
কেন এই আইনটি আমাদের সবার জানা জরুরি?
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই আইন সম্পর্কে জানলে আমরা: তাদের অধিকার রক্ষায় সচেতন হতে পারব। সরকারি ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেতে তাদের সহায়তা করতে পারব। সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) সমাজ গড়তে পারব।
আমাদের করণীয়
আপনার আশেপাশে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকলে তাকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন করাতে উৎসাহিত করুন। আইনের সুফল ভোগ করতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আপনার কি এই আইনের অধীনে সরকারি পরিচয়পত্র বা ভাতা পাওয়ার নিয়মগুলো জানার প্রয়োজন আছে? কমেন্টে আমাদের জানান অথবা আমাদের পরবর্তী পোস্টটি পড়ুন!লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করুন।

অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস (ধারা ৪): সামাজিক যোগাযোগ ও আচরণগত সীমাবদ্ধতা।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতা (ধারা ৫): হাত, পা বা শরীরের কোনো অংশের চলনক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।

মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা (ধারা ৬): দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমস্যার কারণে কর্মক্ষমতা হারানো।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (ধারা ৭): আংশিক বা সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীনতা।

বাকপ্রতিবন্ধিতা (ধারা ৮): কথা বলা বা ভাব প্রকাশের অক্ষমতা।

বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা (ধারা ৯): মানসিক বিকাশের ধীরগতি বা আইকিউ কম হওয়া।

শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা (ধারা ১০): শোনার অক্ষমতা।

শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (ধারা ১১): একই সাথে দেখা ও শোনার সমস্যা।

সেরিব্রাল পালসি (ধারা ১২): মস্তিষ্কের আঘাতজনিত কারণে শারীরিক ও পেশির সমন্বয়ে অক্ষমতা।

ডাউন সিনড্রোম (ধারা ১৩): ক্রোমোজোমজনিত কারণে শারীরিক ও মানসিক বৈচিত্র্য।

বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতা (ধারা ১৪): একাধিক প্রতিবন্ধিতার সমন্বয়।

অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা (ধারা ১৫): সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্য যেকোনো নতুন ধরন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকারসমূহ (ধারা ১৬)
আইনের ১৬ নম্বর ধারায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ২১টি বিশেষ অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কিছু হলো:

পুরোপুরিভাবে বেঁচে থাকা এবং বিকাশের অধিকার।

আইনের সমান আশ্রয় লাভ এবং বৈষম্যহীন আচরণ পাওয়া।

সুগম্য পরিবেশে চলাফেরা (Accessibility) এবং গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধা।

শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা লাভের অধিকার।

সংস্কৃতি, বিনোদন ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার।

Scroll to Top